লক্ষ্মীপুরের নির্বাচন এ দ্বিমুখী সংসদ সদস্যরা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে লক্ষ্মীপুরে চারটি আসনে বইছে ভোটের হাওয়া । সব কটি আসনে প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়ে গণসংযোগ ও চায়ের আড্ডা বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছে বড় দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াত। বসে নেই অন্য দলের প্রার্থীরাও। সকাল-বিকেল চালাচ্ছেন প্রচারণা।
লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সে সময়ে একতরফা নির্বাচনে সব আসন আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। এবার সেটা ফিরে পেতে তৎপর বিএনপি। অন্যদিকে মাঠ দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াত ও ইসলামি আন্দোলন । তারাও চায় বিএনপির ঘাঁটিতে ভাগ বসাতে।
লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ৪৫ জন। তাঁদের মধ্যে ৩৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর -১ রামগঞ্জ
মনোনয়ন পেয়েছিলেন বিএনপির জোটসঙ্গী বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম। আগে থেকে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় সেলিম দীর্ঘদিন বিএনপি ও জোটের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মাঠে আছে।
এনসিপি থেকে মাঠে রয়েছেন মাহাবুব আলম ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও জমা দেননি।
জামায়াতের প্রার্থী উপজেলা আমির নাজমুল হাসান পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘রামগঞ্জের মানুষ পরিবর্তন চায়, শান্তি ও সুশাসন চায় চাঁদাবাজ মুক্ত সমাজ চায় । আমি তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সে লক্ষ্যে কাজ করছি।’ এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের জাকির হোসেন পাটওয়ারীও ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি গড়বেন চাঁদাবাজ মুক্ত সমাজ ।
লক্ষ্মীপুর -২ রায়পুর
এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন আবুল খায়ের ভূঁইয়া। বিএনপির দাপুটে নেতা চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘এই আসন বিএনপির ঘাঁটি। তৃণমূলের ঐক্য ও জনগণের সমর্থন থাকলে আমরাই জয়ী হব।’ এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির জেলা আমির এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া তিনি পেশায় শিক্ষক ও ক্লিন ইমেজের । নির্বাচন সামনে রেখে তিনি ও দলের নেতা-কর্মীরা সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড বাড়িয়েছেন। রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, এই আসনে এবার বিএনপির জন্য বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী তিনি বলেন ১৭ বছর এ একবার বার মাঠ ছাড়েন নি সুখে দুখে ছিলেন জনগণের পাশে তাই তিনিও আশাবাদী জয়ের ব্যপারে ।
লক্ষ্মীপুর -৩ (সদর)
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এই আসনে দলীয় প্রার্থী। শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এর আগেও দুবার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
এ্যানি বলেন, জনগণের ভোটেই আমি দুবার সংসদ সদস্য হয়েছি, এবারও বিশ্বাস করি, মানুষ বিএনপিকে বিজয়ী করবে।
এখানে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম। তিনি নমিনেশন কনফার্ম করেই নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং এখনো তৈরি হয়নি অভিযোগ অনতিবিলম্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এর জন্য তৎপর হতে বললেন প্রশাষন কে , ‘লক্ষ্মীপুরের জনগণ পরিবর্তন চায় জনগণ আর কোন ভুল করবে না । একটি সৎ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ চায়। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা মাঠে নেমেছি। মানুষ পরিবর্তন চায়। সে আলোকে জামায়াতের প্রার্থীকে বেছে নেবে বলে আশা করি।’
গণঅধিকার পরিষদের লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির সভাপতি নুর মোহাম্মদ ও ইসলামী আন্দোলনের জেলা শাখার সভাপতি মো. ইব্রাহিমও প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর -৪ (রামগতি- কমলনগর)
এই আসনে বিএনপির সহশিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানকে মনোনয়ন দিয়েছে দল। নিজান বলেন, ‘আমি দুবার এই এলাকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। ভালোমন্দ সময়ে অসময়ে মানুষের পাশে ছিলাম। আগামী দিনেও জনগনের পাসে থাকবো।
একই আসনে প্রার্থী লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী এ আর হাফিজ উল্যা। হাফিজ বলেন, ‘রামগতি ও কমলনগরের মানুষ অনেক অবহেলিত। জনগণের দোয়া ও সমর্থন নিয়ে অবহেলার রাজনীতি থেকে মুক্তি দিতে চাই। মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়। আমি নির্বাচিত হলে নদী পাড়ের মানুষের কল্যানে কাজ করবো।
ভোটের মাঠে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের উপদেষ্টা খালেদ সাইফুল্লাহ, গণঅধিকার পরিষদের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রেদোয়ান উল্যা খান ও এবি পার্টির প্রার্থী মিয়া আরিফ সুলতান।
জেলা প্রতিনিধি আব্দুল মতিন














