রাস্তার কাজের মানে সন্তোস স্থানীয়দের

শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও ::  উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে গ্রামীণ জনপদের চিত্র বদলে দিচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জেলার ৫টি উপজেলায় সড়ক,ব্রিজ-কালভার্ট এবং হাট-বাজারের আধুনিকায়নে গত অর্থবছরে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়েছে। এর ফলে সরাসরি সুফল পেতে শুরু করেছেন জেলার লক্ষাধিক মানুষ।

ঠাকুরগাঁও এলজিইডির তথ্য সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য মোট ৩ কোটি ১৮ লক্ষ চুক্তি ঠাকুরগাঁও পল্লিবিদ্যুৎ বাজার থেকে রুহিয়া বাজার পর্যন্ত ও বিডিআর ক্যাম্প থেকে দানার হাট পর্যন্ত ১ কোটি ৭৬ লক্ষ চুক্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী কাজের গুণগত মান বজায় রেখে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই গ্রামীণ সড়কের এগিয়ে চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে সদর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ বাজার থেকে রুহিয়া বাজার পর্যন্ত রাস্তার অর্ধেক কাজ এবং সম্পন্ন বাকি কাজ চলমান এছাড়া বিডিয়ার ক্যাম্প থেকে দানানহাট পর্যন্ত রাস্তার কাজ অনেকাংশে সম্পন্ন ও বাকি কাজ চলমান।আধুনিক এই সড়ক দুটি এখন অত্র এলাকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ও যোগাযোগ মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

টেকসই সড়ক নির্মাণের ফলে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বড় বাজারে বা আড়তে পৌঁছাতে পারছেন। এতে একদিকে যেমন পরিবহন খরচ কমেছে, অন্যদিকে কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। এলজিইডির এই উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে।

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন কুয়াপড়া এলাকার মোঃ মকবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, এলজিইডির আওতায় বিডিয়ার ক্যাম্প থেকে দানার হাট পর্যন্ত রাস্তাটির মেইনটেনেন্সর কাজ অনেকাংশে সম্পন্ন ও বাকি কাজ চলমান আছে। আমার জানা মতে মতে কাজের গুনগতমান পূর্বের তুলনায় অনেক ভাল হচ্ছে। প্রকৌশলিদের সার্বিক তত্বাবধানে কাজটি ভালোভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। রাস্তাটির কাজ শেষে হলে আমাদের চলাচল ও কৃষি পণ্য পরিবহনের খুব সুবিধা হবে।

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ বাজার এলাকার মোঃ জয়নাল নামে এক ব্যক্তি জানান, এলজিইডির আওতায় পল্লী বিদ্যুৎ বাজার রুহিয়ার রাস্তাটি কাজ চলমান কিন্তু যেটুকু কাজ হয়েছে খুব ভালো কাজ হয়েছে।আমার মতে কাজের গুনগতমান অনেক ভাল হচ্ছে। পূর্বে রাস্তা সরু ও ভাঙ্গাচোরা ছিল । বর্তমানে বড় হওয়ায় আমাদের চলাচলের সুবিধা হচ্ছে এবং দূর্ঘটনাও কমবে বলে আশা করি।

 

এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলি মোঃ ফরহাদ হোসেন সৌরভ জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং কাজের গুণগত মান বজায় রেখে এলজিইডি কাজ করে যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে দক্ষ প্রকৌশলি ও কার্যসহকারীদের নিবির তত্বাবধানে কাজসমূহ বাস্তবায়ন হচ্ছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং গুণগত মান বজায় রেখে এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। জেলার ৫টি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের রাস্তা, ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে চলেছে। এতে করে গ্রামের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা আরামদায়ক ও দূর্ঘটনা মুক্ত হচ্ছে। এতে আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা উন্নত হচ্ছে। সকল মানুষ তাদের পণ্য কম খরচে, সহজে নিকটস্থ বাজারে বাজারজাত করতে সক্ষম হচ্ছে।