নারী-শিশু সুরক্ষার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে দেখছে সরকার : মির্জা ফখরুল
শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও:: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিশকোটি মানুষের দেশে সবকিছু সরকারের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না। প্রত্যেক মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নিজেকে পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাই প্রত্যেককে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।
আমি যদি নিজেই সচেতন নাগরিক না হই, যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলি বা শৃঙ্খলা মেনে না চলি, তাহলে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠন সম্ভব নয়। নাগরিক সচেতনতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে বিভিন্ন খাতে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আইন আরও কঠোর করা হয়েছে এবং অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধানও কার্যকর করা হচ্ছে।
মাদক নির্মূলেও সরকার স্থানীয় ও জাতীয়—উভয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এর অপব্যবহার রোধে প্রশাসনিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কারণ, মাদক কোনো বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; এটি সমাজের সামগ্রিক একটি সংকট।
আসুন, আমরা সবাই মিলে সচেতন, পরিচ্ছন্ন, মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করি। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সুন্দর, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
সোমবার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
এছাড়া তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালকে ইতোমধ্যে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। হাসপাতালের অবকাঠামো ও সেবার মান আরও উন্নত করতে পর্যায়ক্রমে বিদ্যমান সব সমস্যার সমাধান করা হবে। জনবল সংকট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।