ময়মনসিংহ সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ২০% নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত
আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ:: বিদুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের জৌষ্ট সহকারি সচীব তাহমিলুর রহমান আজ বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারী বেসরকারি স্টেক হোল্ডার, ব্যবসায়ী ও গনমাধ্যম কর্মীদের সাথে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় বলেছেন, দেশে প্রতিবছর ৬% হারে বিদুৎতের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিদুৎ উৎপাদনের মেজর সোর্স বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ধারাবাহিকভাবে কোভিড, ইউক্রেন – রাশিয়া, ইরান- আমেরিকা যুদ্ধ এবং হুরমুজ প্রনালী সংকটের কারনে সেই সোর্স এলএনজি আমাদানিতে সঙ্কট তৈরি হয়েছে। যে কারনে দেশে সাড়ে বার হাজার মেগাওয়াট গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না যার ফলে বিদুৎতের চাহিদায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এছাড়া দু”বছর আগের চেয়ে এলএনজির বর্তমান দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
কিন্তু সঙ্কট সত্বেও সরকার বেসরকারি খাত থেকে ২২ টাকা ইউনিটে বিদুৎ কিনে জনগনকে চার টাকা ৪৩ পয়সায় দরে দাম না বাড়িয়ে প্রায় আঠার টাকা ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু এই বিষয়টি জনগন স্পস্টত অবগত নন তাই বিষয়টি জনগনকে জানানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সমষ্যা কোন রাজনৈতিক ইস্যু নয় এটা সব সময় সব সরকারের ইস্যু। বিদুৎ সঙ্কট মোকাবেলায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ২০% নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করা। দেশে বর্তমানে ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদুৎতের চাহিদা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে চাহিদা হবে প্রায় ২৪-২৫ হাজার মেগাওয়াট। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী এই ঘাটতি বিদুৎতের চাহিদা পুরন করা হবে রুফটপ সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে। তাই বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের জন্য ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করতে সোলার প্যানেল আমাদানির ৬৪% পার্সেন্ট শুল্কের হার কমিয়ে ১% পার্সেন্ট করা হয়েছে।
তিনি আরোও বলেন, বিদুৎ সঙ্কটের দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান হলো প্রাকৃতিক ভাবে বিনামুল্যে প্রাপ্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি সোর্স যেমন সুর্যের আলো, বাতাস ও পানি দিয়ে পানি বিদুৎ উৎপাদনের উদ্যেগ নিতে হবে।
কর্মশালায় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের বিদুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মাৎ জোহরা খাতুন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো সাইফুর রহমান। বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের এডিসি (জেনারেল), রেজা মোহাম্মদ গোলাম মাসুম প্রধান, এডিসি মো আসাদুজ্জামান ও লুতফুন নাহার প্রমুখ।
তিনি আরও বলেন ময়মনসিংহ বিভাগ প্রধান বিদুৎ ঘাটতি প্রবন এলাকা। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় উৎপন্ন হয় প্রায় ৫০০ টন বর্জ্য। ময়মনসিংহের ঘাটতি পুরনে বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রায় ৫ মেগাওয়াট বিদুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়েবসাইটে আপলোড করা প্রস্তাবিত মডেল অনুসরন করে ময়মনসিংহের ঘাটতি পুরনে বিদুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এ জন্য সিটি করপোরেশনের সাথে আলোচনা করা হবে বলেও সেমিনারে জানান তিনি। বিল্ডিং কোড, বিদুৎ বিভাগের পরিপত্র অনুয়ায়ী ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুত স্থাপন না করলে ২০২৮ সাল থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হবে বলেও তিনি জানান।