প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) ফ্যসিবাদের নিষ্পেষণে জর্জরিত রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। আর সেই সংস্কারের লক্ষ্যেই আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ বলা সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু এতোদিন সেই জনগণকেই বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি যেন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ অতীতের মতো না হয়। মনে রাখবেন, গণভোটের জয়ের মাধ্যমে আপনার কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন সম্ভব।
গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশে আয়োজিত ইমামদের মতবিনিময় তিনি এসব কথা বলেন।
সোমবার বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস ময়দানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ বিভাগীয় ইমাম সমাবেশের আয়োজন করে।
ড. রীয়াজ বলেন, আমরা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র তৈরির পথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছরেও আমরা তা অর্জন করতে পারি নি। সময় এসেছে গণভোটে রায়ের মাধ্যমে জনগণের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মানের।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচিত সরকারই ৪২ শতাংশের অধিক ভোট পায় নি। সংস্কার প্রস্তাব অনুসারে, সংবিধানের উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতে ১০০টি আসন থাকবে। অর্থাৎ যে দল মোট ভোটের মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে কিন্তু সরকার গঠন করতে পারে নি, তারও ৫ জন প্রতিনিধিত্ব থাকবে সংসদের উচ্চকক্ষে। আর সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগবে (কমপক্ষে ৫১ ভোটের সমর্থন)।
রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব সম্পর্কে বলেন, বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই সব হতো। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। অথচ বলা হয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়, বিচার ব্যবস্থায় বিচারপতি নিয়োগ এসব রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদায়ন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো তৎকালীন সরকারপ্রধানের ইচ্ছা অনুসারেই হয়ে থাকে।
সংবিধানের ৭০নং অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিজ দলের এমপিদের মুখে স্কচটেপ এটে দেওয়ার মতো। এ ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিকাশে বিশাল বাধা। এ ব্যবস্থার উত্তরণে সংস্কার প্রস্তাবে অর্থবিল এবং আস্থা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নিজ নিজ দলের অনুগত থাকবে, অন্য বিষয়ে এমপিরা স্বাধীন মতামত প্রদান করতে পারবেন এমন প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারি কর্মচারীরা গণভোটের প্রচারণা করতে পারেন কিনা এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকারি কর্মচারীরা গণভোটের প্রচারণা করতে পারেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী আইনগত কোনো বাধা নেই।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল উদ্দেশ্য সামাজিক ন্যায় বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের মত বিষয় যেন সম্মানের সাথে বাস্তবায়ন করতে পারি তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এমন একটা সমাজ চাই যে সমাজে আমার সন্তানের পরিচয় নির্ধারণ হবে তার যোগ্যতার ওপর তার অর্জিত জ্ঞান ও প্রচেষ্টার ওপর। গণভোটে হ্যাঁ দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবেনা, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থাকবে না বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যা বোগাস। তিনি অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে সকলের প্রতি আহবান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অস্তিত্ব মর্যাদার সহিত হবে নাকি স্বৈরাচারী হবে, জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে হবে নাকি বিপক্ষে হবে তার জন্যই গণভোট। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার সুরক্ষার জন্য এ গণভোট জরুরি।
মনির হায়দার বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ও সুযোগ আমাদের সামনে। আমরা আর নিজ দেশে পরবাসী হয়ে থাকতে চাই না, নিজ অধিকার সুরক্ষার জন্যই এই গণভোট।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফজলুর রহমান,ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া প্রমুখ।













