মশিউর রহমান খান, জয়পুরহাট:: জয়পুরহাট জেলায় উদ্বেগজনক হারে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হতে আসা রোগীর সংখ্যা হার কমেছে । গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মোট ১১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জয়পুরহাট জেলার সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান অনুসারে দৈনিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, জেলায় এ পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৬ জনে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২ জনের শরীরে হামের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। উপজেলা ভিত্তিক তথ্য সবচেয়ে বেশি সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে জয়পুরহাট সদর ও জেলা হাসপাতাল এলাকায় (৭৯ জন)। এছাড়া পাঁচবিবিতে ৩৬ জন, ক্ষেতলালে ২১ জন, আক্কেলপুরে ১২ জন, কালাইয়ে ৫ জন এবং সদর উপজেলায় ৩ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। সুস্থতা ও ছাড়পত্র: এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন। ল্যাব পরীক্ষা: রোগ শনাক্তকরণের জন্য এ বছর এখন পর্যন্ত ৭৩টি সিরাম নমুনা ল্যাবে পাঠানো হয়েছে
স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে জেলা সদরে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ:
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। শিশুদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি দেখা যায়। জ্বরের সাথে শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।
এক নজরে আজকের পরিসংখ্যান (২৬/০৪/২০২৬):
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী: ৫ জন।
থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭২জন। এর মধ্যে অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোঃ জুয়েল সরদার জানান , হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য পৃথকভাবে ৪৪ শয্যার একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রোগীদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের অভিভাবকরা জানান, হামের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক ও নার্সরা প্রয়োজনীয় সেবা দিচ্ছেন। জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছাঃ লিপি আক্তার বলেন, “হামে আক্রান্ত শিশুদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
জেলার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আল মামুন বলেন, “হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।” তবে আগের চেয়ে কিছুটা প্রকোপ কমেছে।
তিনি আরো বলেন ৮৮২৫৮ শিশুর তালিকার টিকা
প্রদান ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে ১০ মে পর্যন্ত
মোট ৮৪৬ কেন্দ্র ও ৩১৫ স্কুলে টিকা প্রদানের বুথ খোলা হয়েছে এবং ছয় মাসে শিশু থেকে যেসব শিশুর বয়স চার বছর ১১ মাস ২৯ দিনের নিচে তাদের সবাইকে টিকা আওতায় আনা হয়েছে
এখন যা হচ্ছে তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত চিকিৎসা নেওয়া ৭২ জনের মধ্যে ৩ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে জয়পুরহাটে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ- প্রয়োজনীয় ওষুধ সবসময় সহজলভ্য থাকে না। তারা দ্রুত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন
মশিউর রহমান খান
জয়পুরহাট জেলা













