আইয়ুব আলী ময়মনসিংহ :: বাংলাদেশের অর্থনীতির মুল চালিকা শক্তি কৃষি, গার্মেন্টস র্যা মিট্যান্স। কৃষককে বাচাতে কৃষক যাতে হয়রানী না হয় এজন্য ১ লক্ষ থেকে পাচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানত বিহীন লোন দেয় সরকার। গত বছর ব্যাংকগুলো সেই লোনের টার্গেট পুরন করতে পারে নাই। কৃষকের জন্য চার শতাংশ হারে স্বল্পসুদে যে লোন দেওয়ার কথা সেই টার্গেট পুরনে ব্যার্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলো। গত বছর দুই হাজার কোটি টাকার লোন বরাদ্দ ছিল ময়মনসিংহের কৃষকের জন্য। মশলা জাতিয় খাতে ৩ কোটি ৬১ লক্ণ টাকর বিপরিতে লোন দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা।এখন মশরার দাম বাড়লে দায়ি কে? তারা যারাদায়িত্বে ছিলেন। কৃষি ব্যাংক এক কোটি টাকার বিপরিতে ২ লক্ষ টাকা বিতরন করেছে। কৃষি ব্যাংক দক্ষিন শাখা ১ কোটি ষাট লক্ষ টাকার বিপরিতে বিতরন করেছে ৭৫ লক্ষ টাকা।উদ্দোক্তাদের বন্চিত করার দায় যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা আপনাদের ব্যর্থতা।
কৃষকের জন্য সরকারের দেয় লোনের টাকা ফেরত গেছে। তাতে সরকারের মহৎ উদ্যেশ্যও ব্যর্থ হয়েছে। কারন হিসেবে ওঠে এসেছে কৃষকের সাথে ব্যাঙ্কের সংযোগ নেই। এ জন্য কৃষক ও ব্যাঙ্কের মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আগামি ১১ মাস কৃষকের প্রকৃত তালিকা অনুযায়ী লোন দেওয়া হয়েছে কিনা পর্যবেক্ষন করা হবে।
“আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি উদ্যোক্তাগণের ও ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকের সাথে সংযোগ স্থাপন শীর্ষক “উদ্যোক্তা সমাবেশ ও বিশেষ কৃষি ঋণ কমিটির সভায় রবিবার (২৬ জুলাই ) দুপুরে এসব কথা বলেন কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো সাইফুর রহমান।
তিনি উদ্দোক্তাদের উদ্যেশ্য আরও বলেন, পুকুরে মাছে চাষ করেন, ড্রাগন ফল ফলের চাষাবাদ বৃদ্ধি করেন । কাঠালের চীপস তৈরি ও গুড়া মশলা উৎপাদন বাড়ান সরকার আপনাদের পাশে আছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি, জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষি উদ্যোক্তাবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে কৃষি লোন নিতে গিয়ে পদে পদে হয়রানীর ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন কৃষক মোশাররফ হোসেন ও আব্দুল মান্নান।
সমাবেশে ওঠে আসে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি এবং দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রার ৪৫% কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং কৃষি খাত জিডিপিতে প্রায় ১২% অবদান রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২০/২৫২০২৬ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৩৮ কোটি টাকা।
বক্তারা বলেন, সমাবেশের উদ্দেশ্য হলো কৃষি উদ্যোক্তা ও ব্যাংকের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, ঋণ সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, অর্থায়নের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা। সময়মতো ঋণ পেলে একজন উদ্যোক্তা আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ, যন্ত্রপাতি ক্রয়, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণে বিনিয়োগ করতে পারেন। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি, আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে ব্যাংকও দক্ষ ও সফল উদ্যোক্তার মাধ্যমে নিরাপদ ও টেকসই বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।















