আইয়ুব আলী ময়মসনসিংহ :: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দশালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজা (৬০)। প্রায় ২৫ বছর আগে মারা যান স্বামী সুরুজ আলী। এরপর একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়ে একাই বসবাস করছেন ঝুপড়ী ঘরে। সেই ঘরে নেই আলো নেই বাতাশ ।
বৃষ্টি নামলেই ঝুপড়ির চালে সৃষ্ট অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে ঘরের ভেতরে টপটপ করে পড়ত পানি। ঝড়ো বাতাশে এদিকসেদিক দুলে ওঠত সেই ঝুপড়ি আর অজানা শঙ্কায় কেঁপে উঠত ফিরোজা বুক। তবুও সেই ঝুপড়িই ছিল ফিরোজার ছিন্ন জীবনের বাচা মরার একমাত্র ভরষা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফিরোজার আয় রোজগার না থাকায় অন্যের সহায়তা আর ভিক্ষাবৃত্তিই হয়ে ওঠে তার জীবিকার প্রধান অবলম্বন। ঘর ঠিক করবেন কিভাবে। কিভাবেই বা ঘুচবে তার অনিরাপদ জীবনের ভার।
ফিরোজার দু:খ দুর্দশার এই করুন চিত্রের খবর এক কান দুকান করে চলে যায় নান্দাইল আসনের সংসদ সদস্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর কানে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত জোড়ালোভাবে বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর নজরে আনেন। তাই ফিরোজের অনিরাপদ ছিন্ন জীবনের অবসান হতে চলেছে। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফিরোজা পাচ্ছেন নতুন ঘর। এ যেন ঘর নয় শেষ জীবনের শেষ আশ্রয়ের নিরাপদ স্বপ্ন। 
উদ্যোগটি ফিরোজার জীবনে শুধু একটি নতুন ঘর নয়, তাকে দিয়েছে ভবিষ্যৎ আর নিরাপদ জীবনের নতুন আশা। ফিরোজা বলেন, ‘আমি কোনোদিন ভাবিনি শেষ জীবনে এসে নতুন ঘর, নিরাপদ আবাস পাব। এখন মনে হচ্ছে আল্লাহ আমার দিকে তাকিয়েছেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত জানান, সরেজমিন ‘ফিরোজার বাড়িতে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি দেখার পর তিনি বিষয়টি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে জানান। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ পরিষদের সহায়তায় ফিরোজার জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন ঘর।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সমাজের পিছিয়ে থাকা অনগ্রসর দরিদ্র মানুষের জন্য রাস্ট্রের বড় দায় রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতার সঠিক প্রতি পালন করতে চান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান । আর ফিরোজা বেগমের মত অসহায় সকল বিপন্ন মানুষের আবাস নিশ্চিত করার মাধ্যমেই তৈরি হবে মানবিক রাস্ট্র । সেই মানবিক রাস্ট্রের মানবিক প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান।















