আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ :: ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরে অসহায়, দুঃস্থ ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পরিষদ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে আয়োজিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিগ্ধা দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহ জেইউএম এর সভাপতি এম আইয়ুব আলী, সাধারণ সম্পাদক ও ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, আর্থিক সহায়তা গ্রহণকারী হালিমা খাতুন, জমিলা বেগম, জামাল উদ্দিন, সাজেদুল, নজরুল ইসলাম, ইকবাল হোসাইন, সাহেরা খাতুন, কাজী আফতাব উদ্দিন প্রমুখ। এসময় উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সালাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মজিবুর রহমান, হিসাব রক্ষক মাহমুদুর রহমান তাসনিম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ৬৪ জনের হাতে ২৬ লাখ ২৯ হাজার টাকার চেক তুলে দেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জেলা পরিষদকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে কাজ করছি। এখন থেকে উন্নয়ন প্রকল্প এবং আর্থিক সহায়তার চেক উপজেলায় বিতরণ করা হবে। তিনি বলেন, হাজার হাজার আবেদনের মধ্যে যতজনকে সম্ভব সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। জনগণের টাকা জনগণকে দিচ্ছি। এটা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে বিতরণ করা হয়। আগের সরকারের আমলে যাদের বাড়ি গাড়ি আছে এমন ব্যক্তিকেও ৫ হাজার টাকা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ এমন অবস্থার মধ্যেও দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকার আর্থিক সহায়তা করছেন।’
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কল্যাণমুখি রাষ্ট্র গঠন করতে চান বলেই মানুষের কল্রাণে কাজ শুরু করছেন। সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড দিয়ে প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, কৃষকদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋন মওকুফ করেছেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই এমন মানুষেল জন্য সরকার নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সাইকেল ও ট্যাব দিচ্ছেন। উদ্যোক্তা তৈরির জন্য ২০ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হচ্ছে। কম খরচে এক কোটি মানুষকে বিদেশে কাজ করতে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিদ্যুৎ সঙ্কট আগের সরকারের তৈরি করা। বর্তমান সরকার ঋণের টাকায় গ্যাস কিনে বিদ্যুৎ সঙ্কট মোকাবেলা করছে। সরকার গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ঘরে ঘরে সোলার প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ সঙ্কট মোকাবেলার জন্য জেলা পরিষদে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও সোলার প্যানেল স্থাপন করতে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, উন্নয়ন মানেই রাস্তাঘাট আর বিল্ডিংয়ের উন্নয়ন নয়। মানুষের কল্যাণই হলো প্রকৃত উন্নয়ন। জনগণের অর্থ জনগণের কাজেই ব্যয় করতে হবে। জেলা পরিষদ জনগণের দুর্ভোগ লাগবে সবসময়ই পাশে থাকবে। আজকে জেলা পরিষদকে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই।
















