শামসুল আলম,ঠাকুরগাঁও:: দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল,জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় ঠাকুরগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের’ মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়ডাঙ্গী উপজেলাধীন ২নং চাড়োল, ৮নং বড়বাড়ী ও ১নং পারিয়া ইউনিয়নভুক্ত ছোট সিঙ্গীয়া থেকে গোয়ালকারী উপ-প্রকল্পের আওতায় ছোট সিঙ্গীয়া-গোয়ালকারী খাল পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে ।
জানা যায় যে,খালটি ছোট সিঙ্গীয়া মৌজারে বারোমনি নামক স্থান হতে উৎপত্তি হয়ে বড়বাড়ী মৌজার তিরনই নদীতে গিয়ে পতিত হয়েছে । খালটির মোট দৈর্ঘ্য ৭.৫ কিলোমিটার । যার মধ্যে ৭.২ কিলোমিটার পুনঃ খননের জন্য অনুমোদিত হয়েছে । এখন পর্যন্ত ১.৪৫ কিলোমিটার খাল পুন:খননের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। খালটিতে মোট ৭টি মাছের আশ্রয়স্থল নির্মাণ করা হবে।খাল পুন:খননের কাজ সমাপ্ত হলে এ উপ প্রকল্পের আওতায় ৬৯১টি খানার জনগণ এবং ৪৬২ হেক্টর কৃষি এলাকা উপকৃত হবে । এছাড়াও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে আবাদি জমি থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশিত হয়ে জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে রেগুলেটর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে খালে পানি সংরক্ষণ করে ফসলি জমিতে সেচ দেওয়া যাবে। এতে উপ-প্রকল্প এলাকার কৃষকগণ স্বল্প-ব্যয়ে সেচকার্য পরিচালনা করতে পারবে । ফলশ্রুতিতে উপ-প্রকল্প এলাকায় কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় কৃষক মোতালেব হোসেন,আঃ করিম, উক্ত খালটি কিছু অংশ পুন:খনন হয়েছে সম্পূর্ণ খালটি খনন শেষ হলে কৃষকরা খুব উপকৃত হবে। জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে রেগুলেটর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে খালে পানি সংরক্ষণ করে ফসলি জমিতে সেচ দেওয়া যাবে। এতে উপ-প্রকল্প এলাকার কৃষকগণ স্বল্প-ব্যয়ে সেচকার্য পরিচালনা করতে পারবে । এলাকায় কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ।
স্থানীয় ব্যক্তি আঃ রাজ্জাক বলেন দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি জলাবদ্ধতার শিকার হতো। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষিকাজে নতুন গতি আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
ঠাকুরগাঁও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলি মোঃ মামুন বিশ্বাস জানান,বারোমনি থেকে তিরনই নদী পর্যন্ত খালটি ৭.২ কিলোমিটার পুনঃ খননের জন্য অনুমোদিত হয়েছে । এখন পর্যন্ত ১.৪৫ কিলোমিটার খাল পুন:খননের কাজ হয়েছে বাকি অংশটুকু খনন সম্পন্ন হলে স্থানীয় কৃষকরা উপকৃত হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) আলমগীর কবীর জানান,সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি খাল খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা । খালটি পুনঃখনন ও সম্প্রসারণের ফলে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য বিশেষভাবে উপকার বয়ে আনবে।













