আইয়ুব আলী ময়মনসিংহ :: ময়মনসিংহে কম খরচে পরিবেশ রক্ষা করে টেকসই উন্নয়ন এবং নির্মানকাজের মান ঠিক রাখতে সাধারন ইটের পরিবর্তে ‘ব্লক” এবং কংক্রিটের ইট ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন বক্তরা । বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে “টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে পরিবেশবান্ধব ইটের ব্যবহার বৃদ্ধি সংক্রান্ত” মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। জেলা প্রশাসক মো সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথী ছিলেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এসএম হুমায়ুন কবির সরকার। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ অধিদপ্তের সহাকারি পরিচালক সাবিকুন্নাহার। প্রবন্ধে ওঠে আসে নানা কারনে ২০২৫ সালের মধ্যে নির্মানকাজে শতভাগ ব্লক ইটের ব্যবহারে সরকারি লক্ষমাত্রা ধার্য করা হলেও তা অর্জিত হয়নি।
মতবিনিময় সভায় সরকারী নির্মান প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধি, ইটভাটার মালিক, মালিক সমিতি, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং গনমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য রাখেন । সভায় খোলামেলা আলোচনায় ইটভাটার মালিকগন সরকারী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পদে পদে হয়রানীর এবং তুচ্ছ কারনে বেশি টাকার জরিমানা করার কারেনে তাদের ব্যবসার লোকসানের মুখে ঠেলে দেওয়ার সমালোচনা করে সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনের প্রতি ব্যবসায়ীদের প্রতি সন্মানজনক নমনীয় এবং আচরনের দাবী জানানো হয়েছে। কোন কোন ব্লক ইটভাটার মালিকরা বলেছেন, তাদের উৎপাদিত ইটের চাহিদা কম, বিক্রি না হওয়ায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন। ব্লক ইট তৈরিতে সরকারী ভর্তুকি ও প্রনোদনা দেওয়াসহ তাদের তৈরি ব্লক ইট সরকারী সকল নির্মানকাজে ব্যবহারের দাবী জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সভায় জেলা প্রশাসক মো সাইফুর রহমান বলেন, জেলায় ৩২৩টি ইটভাটার অধিকাংশই লাইসেন্স বিহীন। সরকারের অভিপ্রায় অনুয়ায়ী আগামী তিন মাসের মধ্যে কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও সকল ইট ভাটার মালিকদের লাইসেন্স দেওয়া বিষয় ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন তিনি । এছাড়া সরকারী পরিত্যক্ত ডোবা-পুকুর-জলাশয় এবং খাল কাটার পর উদ্বৃত্ত মাটি, কমমুল্যে সরকারী বালি ব্যবহার করে ইট প্রস্তুতের জন্য সমতল এলাকা বা ফসলি জমির মাটির ওপর চাপ কমানোর পরমর্শ দেওয়া হয়েছে ।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার এসএম হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রতিবেশ ঠিক রেখে উন্নয়ন করাই পরিবেশ বান্ধব উন্নয়ন। পরিবেশ বিনষ্ট করে কোন উন্নয়ন করা যাবে না। মানুষ পরিবেশ প্রতিবেশ ও জীবজগত রক্ষা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জনগনের জন্য সরকার। সরকারের কাছে দেশের সকল মানুষ সমান। ইটভাটায় কাঠ ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠিন হুসিয়ারি দিয়ে কমিশনার বলেন, যারা সরকারি নির্দেশনা মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কাঠের বিকল্প জ্বালানীর ব্যবহার, কয়লা আমদানির ক্ষেত্রে কম সালফারযুক্ত পরিবেশবান্ধব কয়লার মান নিশ্চিতের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন কমিশনার কবির।















