দুর্গাপুর (রাজশাহী) ::: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ইটের প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক অভিযানে অবরুদ্ধ সেই রাস্তাটি উদ্ধার করা হয়েছে। ভেঙে ফেলা হয়েছে অবৈধভাবে নির্মিত ইটের প্রাচীর।
গতকাল ১৩ সেপ্টেম্বর (রবিবার) বিকেলে উপজেলার আলিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে রাস্তাটি সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা।
স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, আলিপুর গ্রামের মেইন রোড থেকে সরদারপাড়া মরা ঘাটি পর্যন্ত সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রায় ৭ বছর আগে একটি গ্রামীণ পথ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তৎকালীন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৬ ফুট প্রস্থের এই রাস্তাটি বের করা হয়। এই রাস্তার শুরু থেকে মাত্র ৮০ ফুট দূরত্বে ভুক্তভোগী মোছাঃ সানজিদা বিবির বসতবাড়ি।
সম্প্রতি ওই রাস্তার দুই পাশের বাসিন্দা মৃত আলিমুদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ মোফাজ্জল মাস্টার ও তার সহযোগী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পূর্বের নির্ধারিত সীমানার খুঁটিগুলো জোরপূর্বক তুলে ফেলেন। এরপর পুরো রাস্তাটি অবৈধভাবে দখল করে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন।
এর ফলে একদিকে যেমন এলাকাবাসীর মরা ঘাটিতে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়, অন্যদিকে সানজিদা বিবি ও তার পরিবার নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ঘরে ঢোকা বা বের হওয়ার কোনো পথ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন তারা। অনন্যোপায় হয়ে সানজিদা বিবি রাস্তাটি দখলমুক্ত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানান।
ভুক্তভোগী সানজিদা বিবি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা পরিবার নিয়ে ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলাম। নিজ বাড়িতে ঢোকার ও বের হওয়ার কোনো পথ ছিল না। প্রশাসনকে ধন্যবাদ আমাদের এই চরম ভোগান্তি থেকে রক্ষা করার জন্য।”
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। সরেজমিনে তদন্তপূর্বক অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে সর্বসাধারণের চলাচলের পথটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য তা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আলিপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সচেতন মহল।















