জুলাই সনদ সাংবিধানিক ভিত্তি পাবে বলে মতামত দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ এফ এম আব্দুর রহমান। মঙ্গলবার সিরডাপ মিলনায়তনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে আয়োজিত “জুলাই সনদদের আইনি ভিত্তি এবং পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচন ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন মুজিবনগর সরকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র যে প্রক্রিয়ায় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিল, একই প্রক্রিয়ায় জুলাই সনদ সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সংবিধানের ১৫২ ধারা অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র চতুর্থ তফসিলের মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং অন্তর্বর্তীকালীন যা যা করা হয়েছিল এগুলোকে ক্রান্তিকালীন বিধান হিসেবে সংবিধানে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।এ কারণে ওই সরকারের কোন বিষয়েই আর আদালতের চ্যালেঞ্জ করা গেল না।
তিনি আরো বলেন ২১ বছর পরে যেভাবে ইন্ডিমনিটি অধ্যাদেশ সংসদে কন্ঠ ভোটে বাতিল করে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার বিচার করা হয়েছিল, জুলাই সনদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না হলে ঠিক একই প্রক্রিয়ায় জুলাই গণবিপ্লবীদের সবাইকে ফাঁসি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম জিয়াউল হাসান বলেন জুলাই সনদ বাস্তবায়িত না হলে বিপ্লবীদের গলায় ফাঁসির রশি ঝুলবে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন পি আর পদ্ধতি একটি উত্তম ব্যবস্থা, এটি একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রাজুয়েলি প্রয়োগ করার কথা জানান তিনি। মিনিমাম ১০০ আসনে পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে পেশাজীবী সমন্বয়ে পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন জুলাই বিপ্লবীদের ফকিন্নির পোলা বলে গালি দেওয়া নেতাদের ব্যাপারে তাদের দল কী সিদ্ধান্ত নেয় তার দেখার অপেক্ষায় রয়েছে জনগণ। পুরাতন ফ্যাসিবাদের সাথে মিলেমিশে অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার ষড়যন্ত্র জনগণ রুখে দিবে।
সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসির বলেন, আবার যদি কোনোমতে হাসিনা ক্ষমতায় আসতে পারে, তাহলে অতীতের ন্যায় আবারও বিনা বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালাবে। ইন্টিরিয়ম সরকার জুলাই গণবিপ্লবের বেনি ফিসারি হলেও তাদের কর্মে বিপ্লবের দাবি গুলো যথাযথভাবে ফুটে উঠছে না। হাসিনার আমলে নিয়োগ পাওয়া অফিসারদের দিয়ে নির্বাচন করলে কী রেজাল্ট হবে তা জনগণ জেনে গেছে। সুতরাং আগে সংস্কার তারপরে নির্বাচন।
সেমিনারের সভাপতি মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর মোহামমদ আব্দুর রব বলেন বিশৃঙ্খল কোন জাতি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে না, তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পিলখানার গণহত্যা, শাপলা চত্বরের গণহত্যাসহ সকল হত্যার বিচার সম্পন্ন করেই অন্তবর্তী সরকারকে বিদায় হতে হবে।
আয়না ঘরের সাক্ষী – লে. কর্ণেল হাসিনুর রহমান বীরপ্রতীক বলেন আজকে কথা বলতে পারছি ছাত্রদের জন্য, জুলাই বিপ্লব তো নির্বাচনের জন্য হয়নি, হয়েছে সংস্কারের জন্য। সংস্কার আগে তারপর নির্বাচন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন আমাকে অন্যায় ভাবে নির্যাতনের বিচার আমি এখনো পাইনি।
পরিকল্পনাবিদ মো: সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায়
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান মুসা। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. ফিরোজ আহমেদ, অবসর প্রাপ্ত মেজর ড. মোহাম্মদ ইউনুস আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ রুহুল আমিন, ডাক্তার আসাদুজ্জামান কাবুল, সাবেক সচিব শেখ এ কে মোতাহার হোসেন, বাংলাদেশ ঐক্য পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল অব. আবু ইউসুফ জোবায়ের উল্লাহ, ফোরাম অফ ইঞ্জিনিয়ারস অ্যান্ড আর্কিটেক্স এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবিদ হাসান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক এন্ড পীস স্টাডিজের নির্বাহী এবং ইসলামী ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোর জেনারেল সেক্রেটার
ড. মিজানুর রহমান।