শামসুল আলম,ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি ॥ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে আমরা আজ আমাদের নেতা, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচন পূর্ববর্তী যে অঙ্গীকার তা পূরণ করবার পথে। আমরা আমাদের কথা রেখেছি। আমরা যে কাজটি শুরু করলাম, এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে। ফ্যামিলি কার্ড জিনিসটা আসলে কি? এটা আসলে একটা শক্তি। এটি একটি ক্ষমতা, এই কার্ডটি আপনাকে সেই ক্ষমতা দেবে যেই ক্ষমতা দিয়ে আপনি সকলের সামনে দাড়াতে পারবেন। আপনি এটি দিয়ে শুধুমাত্র আর্থিক বা অন্যান্য সহায়তা পাবেন বিষয়টি তা না। আপনি এ দেশের একজন নারী হিসেবে, পরিবারের প্রধান হিসেবে আপনার অবস্থানটিকে দৃঢ় করতে পারবেন। আপনার মাঝে একটি শক্তি আসবে।
তিনি গতকাল মঙ্গলবার সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড রহিমানপুর সম্মিলিত ঈদগাহ দাখিল মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গনে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়নে বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর পাইলটিং পর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রম আজ উদ্বোধন হচ্ছে। বিএনপি কথা দিলে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। নির্বাচনের আগে সরকার ফ্যামিলি কার্ড দিতে চেয়েছে, আজ এর বাস্তাবায়ন শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে সামনের দিনে আরও বেশি পরিমানে পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। সমাজে পুরুষেরা আমাদের মা বোনদের হিসেব নেন না, যখন কার্ডটি আসবে তখন কিন্তু হিসাবে করতে শুরু করবেন। এটাই হবে আমাদের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য, যেন আমি আমাদের সমস্ত মায়েদের ক্ষমতায়িত করতে চাই, ক্ষমতায়ন করতে চাই, তাদের শক্তি বাড়াতে চাই।
পরিবারের নারীদের ক্ষমতায়নের ব্যাপারে মির্জা ফখরুল বলেন, এমনিতেই আমাদের মায়েরা কিন্তু সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম করে। পরিবারের জন্য, সংসারের জন্য, ছেলে মেয়েদের মানুষ করবার জন্য, টিকিয়ে রাখবার জন্য, তাদের ভালো খাওয়ানোর চেষ্টা করা, সেই শক্তিটাকে আরও বাড়ানো। আপাতত সীমিত আকারে প্রায় ৫-৭ শ মানুষের মাঝে এই কার্ডটি শুরু হবে, এটাকে বলছে পাইলটিং প্রজেক্ট। সারা দেশে মাত্র ১৪টি ইউনিয়নকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা পরীক্ষা করছি, যে এই কাজগুলি কিভাবে করা যাবে। কাজগুলি করতে ভুল, ত্রুটি হবে। অনেকে হয়তো বাদ পরতে পারে, তথ্য ভুল হতে পারে, এই কাজটির মধ্য দিয়ে সেই ভুলগুলো সমাধান করা হবে। তাই আপনার ধৈর্য্য হারাবেন না সকলেই কাড পাবেন। এই কার্ডটি প্রতিটি ঘরে ঘরে যাবে, শুধু একটু সময়ের ব্যাপার। শুরু যখন করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তখন এটা অবশ্যই আলোর মুখ দেখবে। এই অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে, আপনাদের সকলের পক্ষ থেকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, যে তিনি আমাদের এই ওয়ার্ডটিকে বেঁছে নিয়েছেন পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে।
সরকার গঠনের খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই আমরা অতি দ্রুত কাজ শুরু করেছি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সরকারের ২২ দিনের মধ্যেই আমরা কিন্তু কাজ আপনাদের সামনে নিয়ে এসেছি। নির্বাচনের পূর্বের ওয়াদা অনুযায়ী কৃষকদের ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মাফ করে দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে খাল কাটা শুরু হয়ে গেছে। ১৬ মার্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই উনার আব্বা জিয়াউর রহমানের মতো হাতে কোদাল নিয়ে মাটি খুড়ে খাল কাটতে শুরু করবেন। সারা বাংলাদেশে অসংখ্য খাল কাটা হবে। এই খালগুলোর মাধ্যমে বর্ষার সময় যে পানিটা হবে সেটিকে সংরক্ষণ করে খরার দিনে যখন আমাদের পানির দরকার তখন ওই পানি আমরা ব্যবহার করবো। আমাদের উত্তরাঞ্চলে এটি খুব দরকার।
প্রত্যেকেই ধৈর্য্য ধরে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রত্যেকটি কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এটি নিয়ে তারা সার, সেচ, পানি, বীজসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ন্যার্য্যমূলে কিনতে পারবেন। আপনাদের ঋন শোধ করবার ভাষা আমার জানা নেই। আমি যদি কিছু কাজ করি, আপনাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে আমি এই ঋনটা কিছুটা হলেও শোধ করতে চাই। আমরা ইতিমধ্যে মেডিকেল কলেজের টিম এসে জায়গা দেখে গেছে। আগামী অর্থ বছরে এখানে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে ইনশায়াল্লাহ। এখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আইন হয়ে গেছে, আমরা এখন শুধু ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ করে জায়গা দেখে ইউনিভার্সিটি চালু করবো। বড় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও বিমান বন্ধর চালুর কথা বললে আপনারা সবাই তালি বাজিয়েছিলেন। ইনশায়াল্লাহ বিমান বন্দরটাও হবে। এছাড়াও আমাদের কিছু তরুন ছেলে-মেয়েদের আমরা আইটি প্রশিক্ষণ দিতে চাই। তাদেরকে এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আর্থিকভাবে সাবলম্বী করতে চাই, যাতে তারা ঘরে বসেই কাজ করে মাসে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করতে পারবে। এ কাজগুলো আমরা শুরু করেছি।
মাদকের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের এলাকার একটি বড় সমস্যা মাদক। আমাদের যুবক ছেলেরা কিছু ভুল পথে চলে যাচ্ছে। এটি শুরু পুলিশ করলে হবে না। আপনাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মা-বাবাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে। ভাই-বোনদের এগিয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে একটি আন্দোলন গড়ে তুলে আমরা মাদককে না বলি। সব শেষ কথা আপনাদের মাঝে হতাশ হবেন না। সকলেই ফ্যামিলি কার্ড পাবে। এই স্কিমটিই হচ্ছে প্রত্যেকটা মহিলা, প্রধান যারা পরিবারের তারা কার্ড পাবেন, তিনি সেটি কি কাজে ব্যবহার করবেন সেটা পরের ব্যাপার, কিন্তু উনার হাতেও একটা কার্ড যাবে। এটা সোজা কথা যে, মহিলাদেরকে ক্ষমতায়ন করা, তার হাতে একটা অস্ত্র তুলে দেওয়া যে, আমার শক্তি আছে। আপনারা নিশ্চিত থাকেন, যে আমরা এখানে কাজ করতে এসেছি। কাজ করবো, যদি দেখা যায় যে, কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হয়েছে তার কোন ক্ষমা নেই। তাকে আমরা ক্ষমা করবো না। আসুন না আমরা নতুন করে শুরু করি। আমাদের আগে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে, পেছন দিকে না তাকাই। সামনের দিনকে কি করে সুন্দর করা যায়, কি করে আরও ভালোভাবে বাস করতে পারি, কি করে দেশে বেকারত্ব দূর করতে পারি, বাচ্চাগুলোকে লেখাপড়া শেখাতে পারি, তাদের জন্য কর্মসংস্থার করতে পারি, মায়েদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বাড়াতে পারি এই কাজগুলো আমরা সকলে মিলে যদি করি তাহলে আমরা করতে পারবো। এ বিশ্বাস আমার আছে, আমি একজন বিশ্বাসী মানুষ। আমি মনে করি জনগনের শক্তির কাছে আর কোন শক্তি বড় নয়। আবারও যিনি এই কর্মসূচী দিয়েছেন তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাকে আন্তরিকভাবে দোয়া করি, কৃতজ্ঞতা জানাই এবং আশা করি তিনি আমাদের কাছে যতটুকু ওয়াদা করেছেন সবগুলো পালন করতে সক্ষম হবেন এই প্রত্যাশা করি।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা: মো: আব্দুস সালাম, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো: শহিদুল ইসলাম (এনডিসি), জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার মো: বেলাল হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খাইরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক মো: পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি মো: শরিফুল ইসলাম শরিফ, অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল হান্নান হান্নু, ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা.ফিরোজ জামান জুয়েল,বিএমডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলি শফিকুল ইসলাম,গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলি মাজিদার রহমান,এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলি মামুন বিশ্বাস, জেলা বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন নেতা-কর্মী, সমর্থক ও অত্র এলাকার সুবিধাভোগী নারী এবং সাধারণ মানুষজন।













