শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও:: প্রকৌশলী কাছ থেকে জানা যায় যে,সড়ক নির্মাণ একটি নির্দিষ্ট প্রকৌশলগত প্রক্রিয়া, যা সম্পূর্ণ হতে নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন। সম্প্রতি কার্পেটিংআ শেষ হওয়ার পরপরই তা হাত দিয়ে টেনে তোলার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তা সম্পূর্ণ কারিগরি জ্ঞানশূন্য কাজ।রাস্তায় যখন বিটুমিনাস সারফেসিং বা কার্পেটিং করা হয় তখন বিটুমিন ও এগ্রিগেট (পাথর) এর মিশ্রণটি অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় (140°C – 160°C) প্রয়োগ করা হয়।
কার্পেটিং করার পর বিটুমিন শক্ত হতে এবং নিচের স্তরের সাথে স্থায়ী Bonding তৈরি করতে নির্দিষ্ট সময় বা ‘আSetting Time’ প্রয়োজন(৪৮-৭২ ঘণ্টা)। কার্পেটিং শেষ হওয়ার পরপরই তা নরম থাকে।
এই অবস্থায় হাত দিয়ে টেনে তোলা মানে হলো একটি নবজাতক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা। এটি কাজের গুণগত মান নয়, বরং সময়ের আগেই তার ওপর যান্ত্রিক বল প্রয়োগের ফল।রাস্তায় কার্পেটিং করার পর রোলার দিয়ে Compaction করা হয়। রোলার দেওয়ার সাথে সাথেই রাস্তাটি তার পূর্ণ শক্তি (Structural Strength) অর্জন করে না।
বিটুমিনাস লেয়ারটি যখন তার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (Ambient Temperature) ফিরে আসে, তখনই তা টেকসই রূপ নেয়। কাজ চলাকালীন বা কাজ শেষ হওয়ার পরপরই সেখানে খুঁচিয়ে তুলে ফেলা মানে হলো রাস্তার Interlocking System ধ্বংস করা।
প্রকৌশলীরা জানান,পৃথিবীর কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানুয়ালে হাত দিয়ে টেনে তোলাকে গুণগত মান যাচাইয়ের পদ্ধতি বলা হয়নি। রাস্তার মান পরীক্ষার জন্য Core Cutting, Bitumen Extraction Test,LAA,ACV, Gradation test এর মতো ল্যাব পরীক্ষা রয়েছে। নির্মাণাধীন অবস্থায় এ ধরনের অপেশাদার আচরণ সড়কের Interlocking System নষ্ট করে দেয়, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের সরাসরি ক্ষতিসাধন বা Vandalism-এর শামিল।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মামুন বিশ্বাস জানান সকলকে অনুরোধ করব উন্নয়ন কাজে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ওপর আস্থা রাখুন এবং প্রকৌশলগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিন। কোথায় কাজের মান খারাপ মনে হলো সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ দাখিল করূন।













