মোঃ শামসুল আলম,ঠাকুরগাঁও:: উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও।ভারী কোন শিল্পকারখানা না থাকায় কৃষিকাজই এ জেলার মানষের একমাত্র আশা ভরসা।কিন্তু সবসময় সময় কৃষক পাইনা সেই কৃষি পণ্যটির ন্যায্য দাম। এতে তাদের সংসারে অভাব লেগেই থাকে পরিবর্তন হয়না ভোগ্যের।
বিগত বছরগুলোতে বাজারে প্রচুর চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় ঠাকুরগাঁও সহ উত্তরের জেলাগুলোতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভুট্টা চাষ। চলতি এই রবি মৌসুমে কৃষকরা অন্যান্য আবাদের চেয়ে ভুট্টা চাষে বেশি ঝুকছে।বেশি উচু নিচু নয় এমন জমিতে আগে শোভা পেত ক্রাউন,তিশি,ধেমসি,কচসহু, গম ও অন্যান্য আবাদ এখন এ সব আবাদ বাদ দিয়ে কৃষক ভুট্টা চাষে উৎসাহী হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ঠাকুরগাঁও জেলায় ২০১৮-১৯ মৌসুমে ভুট্টা আবাদ হয়েছে ৩০ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে,২০১৯-২০ মৌসুমে ভুট্টা আবাদ হয়েছে ৩৪ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে,২০২০-২১ মৌসুমে ভুট্টা আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার ২৬০হেক্টর জমিতে, ২০২১-২২ মৌসুমে ভুট্টা আবাদ হয়েছে ৩৩ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে।২০২২-২৩ মৌসুমে এবার এখন মোট ভুট্টা আবাদ হয়েছে ৩৮ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে মোট ভুট্টা আবাদ হয়েছে ৪৬ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে। সর্বশেষ চলতি মৌসুমে ভুট্টা আবাদ হয়েছে ৪৬ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে । যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি বর্তমানে প্রতি হেক্টর জমিতে খরচ হয়েছ ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা।
প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২.০১ মেঃটন ।অল্প খরচে অল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জনকারি ফসল হওয়ায় কৃষক গম কাটার পরে খরিপ মৌসুমি ভুট্টা লাগাতে বেশ ঝুকে পড়ে। উচ্চ ফলন শীল ভুট্টার মধ্যে রয়েছে পাইনিয়ার ৩৩৫৫ ,এন এইচ ৭৭২০,এনকে ৯৪০,সুপার সাইন ২৭৪০, সোনার বাংলা,রকেট ৫৫,ম্যাজিক-৫৫ ইত্যাদি।।
ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার ভেলাজান গ্রামের কৃষক মোঃ মইনুল ইসলাম, সহ অনেক বলেন গতবার আবহাওয়া অনুক’লে থাকায় এবার ৫ বিঘা জমিতে মৌসুমি পাইনিয়ার ৩৩৫৫ উচ্চ ফলন শীল জাতের ভুট্টা আবাদ করছ্ ি। কয়েক দিন আগে ভুট্টার ফলন ঘরে তোলা হয়েছে। কিন্তুু এখন বাজারে দাম কমে গেছে।যেই সপ্তাহ খানেক আগে প্রতি বস্তা ১৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল সেই ভুট্টা এখন ১৩০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাও আবার বাকিতে। এভাবে ন্যায্য দাম না পেলে আমরা কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হব।
একই কথা বলেন,আলম হোসেন,সাদেকুল হক, জমসেদ সহ অনেক কৃষক।তারা কৃষি পণ্যেও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহব্বান জানান।
জানা যায়,এ অঞ্চলের আবহাওয়া ভুট্টা চাষের অনূকুলে থাকায় এ ফসলটির আবাদ দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে। গমের তুলনায় ভুট্টা ও মরিচের দামও ফলন বেশি হওয়ায় এ ফসল দুটি চাষের দিকে ঝুকছে কৃষক।দেশে আমিষের চাহিদা বেশি থাকায় ঠাকুরগাঁও,পঞ্চগড় সহ উত্তর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলাগলোতে গড়ে উঠেছে ছোট বড় হাঁস,মুরগি ও গবাদী পশুর খামার বৃহৎ কোম্পানীগুলো ছারা ,স্থানীয় গড়ে উঠা ্এসব খামারের প্রধান খাদ্য হল ফিড।বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ফিড মিল। এসব সারা বছর প্রচু পরিমানে ভুট্টা ক্রয় করা হয়ে থাকে।গম ও ভুট্টা,থেকে আটা, ময়দা, বিস্কুট, পাউরুটি হয়।দেশিয় বাজারে ভুট্টার বেশ চাহিদা থাকে যার ফলে এ কৃষক এফসলটি চাষে উৎসাহিত হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাসিরল ইসলাম এর জানান,ভুট্টার আয়ুষ্কাল ১১০-১৩০ দিন হওয়ায় এবং ফলন বেশি ও চাহিদা থাকায় এ ফসল টির আবাদ দিনদিন বাড়ছে।তিনি আরো ও বলেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকদের গম,ভুট্টা,সরিষা,সহ বিভিন্ন ফসল চাষে প্রশিক্ষন ও সরকারি ভাবে প্রণোদনা দেওয়া হেেয়ছে।













