মো: সানাউল্লাহ্ রিয়াদ, বরগুনা :: ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই দর্শনের ভিত্তেতে এবং We have a plan এর আলোকে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে বর্তমান সরকার নির্বাচনের সময় ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন। সরকার প্রধানের প্রতিশ্রুতির মধ্যে যে বিষয়গুলো অগ্রাধিকারভিত্তিক; এর মধ্যে ফ্যমিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ, নদী, খাল খনন ও পুন:খনন, বৃক্ষরোপণ ও নারীর জন্য গাড়ি অন্যতম।
বরগুনা জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার’র সভাপতিত্বে এ বিষয় নিয়ে বরগুনা জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ‘সুবর্ণজয়ন্তী’ সম্মেলন কক্ষে শনিবার (২৩ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ‘প্রেস ব্রিফিং’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস, বরগুনা প্রেসক্লাব’র সভাপতি হাফিজুর রহমানসহ বরগুনার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এর প্রতিনিধি, স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার প্রতিনিধিগণ।
জেলা তথ্য অফিসার সেলিম মাহমুদ বর্তমান সরকার এর উল্লেখিত নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে একটি পাওয়ার প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। পরে উপস্থাপিত বিষয় নিয়ে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীগণ সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রম এর উপরে আলোচনা করেন।
বর্তমান সরকার এর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগীতা চেয়ে বক্তব্য রাখেন ‘প্রেস ব্রিফিং’ এর সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার। তিনি তাঁর বক্তব্যে ইশতেহার অনুযায়ী শুরু হওয়া কার্যক্রম সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন। একই সাথে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও আলোচনার বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেন।
সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নের পথে প্রতিটি পদক্ষেপ যেনো সুন্দর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়, সে লক্ষ্য নিয়েই বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীর পথ হাঁটছেন।
সরকারের ইশতেহারে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড। ফ্যামিলি কার্ড হলো বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি’র আওতায় প্রবর্তিত একটি স্মার্ট কার্ড। প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে, নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নারীর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চতকরণ, পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পরিবারের নারী প্রধানদের মধ্যে মা ও বোনদের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হচ্ছে। এই কর্মসূচি’র মূল দর্শন হচ্ছে ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক পরিবারের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি বছরের গত ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিএন্ডটি মাঠে বিশেষ এ ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন। পাইলটিং কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৪টি ইউনিটে ১০ হাজার পরিবারকে এ কার্ড প্রদান করা হবে। পরবর্তী প্রতি ধাপে ১০ হাজার করে বৃদ্ধি করে চলতি বছরের জুন মাসের এর মধ্যে বিভিন্ন ইউনিটে ৪০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতাভুক্ত করা হবে। জরিপকৃত সকল দরিদ্র পরিবারকেই ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি হতদরিদ্র পরিবার প্রতিমাসে সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিং (G2P সিস্টেমে) পাবে ২৫০০/- টাকা অথবা সমমূল্যের খাদ্য সুবিধা যেমন- ডাল, চাল, তেল, লবনসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য।
এই কার্ড হবে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্তি ও নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার নিশ্চয়তা। ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীরা হলেন- দরিদ্র; যাদের আয়ের কোন স্থায়ী বা সুর্নিদ্দিষ্ট উৎস নেই, বিধবা/স্বামী পরিত্যক্তা নারী; যারা পরিবার পরিচালনা করছেন (বিধবা ভাতা প্রাপ্ত নারী ব্যতীত), প্রতিবন্ধী সদস্য আছেন; এমন পরিবার, ভূমিহীন পরিবার, দিনমজুর ও শ্রমিক।
সরকারের ইশতেহারে রয়েছে কৃষক কার্ড। বাংলাদেশ একটি কৃষি নির্ভর দেশ। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকরা ভর্তুকি, সহজ লোন, বীজ ও সারসহ ১০ ধরণের (ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, সহজশর্তে কৃষি ঋণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, কৃষি বীমা সুবিধা, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, ডিজিটাল প্লাটফর্মে আবহাওয়া পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, ফসলের রোগবালাই দমনের পরামর্শ ও ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা) বিশেষ সুবিধা পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি বছরের গত ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রথম পর্যায়ের কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেন। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা বছরে ২৫০০/- টাকা নগদ সুবিধা পাবেন। মৎস ও প্রাণী সম্পদ খামারীরাও কৃষক কার্ডের সুবিধা পাবেন। পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লক্ষ কৃষক এ সুবিধার আওতায় আসবেন।
এছাড়াও ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ এর বিষয়ও রয়েছে ইশতেহারে। সার, বীজ, তেল, বিদ্যুৎ, সেচের পানিসহ কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি; অন্যদিকে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার হিসেবে শস্য, ফসল, মৎস ও পশুপালন খাতে গৃহীত ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
পনির অভাবে যেনো বাংলাদেশে শস্য উৎপাদন বন্ধ না হয়, বন্ধ না হয় বেঁচে থাকা নদীগুলো। আর হারিয়ে যাওয়া খাল ও নদী রক্ষায় নদী, খাল খনন ও পুন:খনন করারও উদ্যোগ ছিলো সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’ পুন:বাস্তবায়নের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ভিত্তিতে আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন, পুন:খনন ও পুন:উদ্ধারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় দেশে হারিয়ে যাওয়া ৫২০টি নদী, হাজার হাজার খাল ও তাদের প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার ও সেচ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে।
প্রথম পর্যায়ে ৫৪ টি জেলায় এ কার্যক্রম শুরু করেছে বর্তমান সরকার। যার মূল লক্ষ্য জলাবদ্ধতা নিরসন করা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি বছরের গত ১৬ মার্চ দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলায় শাহাপাড়ায় খাল খননের কাজ উদ্বোধন করেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, যা সরকারের ইশতেহারে এক ভিন্ন চিন্তার জায়গা তৈরি করেছে। আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপন ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৃক্ষরোপণকে শুধু গতানুগতিক কর্মসূচির মধ্যে না রেখে বরং জনগণের অংশগ্রহণে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রজন্মগত উন্নয়নের এক সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর করা এ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ৩.৫ লক্ষাধিক সবুজ কর্মসংস্থান তৈরি হবে; যেখানে নারী, যুবক-যুবতী ও গ্রামীণ জনগণ সমানভাবে অংশ নিবে। ২.৫ লক্ষাধিক কর্মসংস্থান তৈরি করতে একইসঙ্গে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ নামে ০৫ (পাঁচ) দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শিক্ষার্থীদের একটি সুন্দর এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথিকৃৎ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করবে। ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি (একটি শিশু, একটি গাছ) কর্মসূচি’র আওতায় বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুকে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
যুগের তালে আর প্রয়োজনের তাগিদে নারীরা যেনো পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে নারীর জন্য গাড়ি এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সরকার গ্রহণ করেছে উদ্যোগ। উন্নত, সমৃদ্ধ ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে নারীদের চলাচলে স্বকীয়তা, স্বাচ্ছন্দ্যবোধ ও নিরাপত্তা প্রদানের নিমিত্তে বিআরটিসি’র মাধ্যমে মহিলা বাস সার্ভিস চালু করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। এ কর্মসূচি’র আওতায় ঢাকায় পরিবেশ বান্ধব ইলেক্ট্রিক বাস এবং নারীদের জন্য নিরাপদ বিশেষায়িত বাস সার্ভিস চালু করা হবে। যা রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় দৃশ্যমান ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। যেখানে চালকসহ সকল কিছু নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করবেন নারীরাই।
সকলের নিরপেক্ষ ও সুন্দর মনস্তাত্তিক চিন্তা আর সহযোগিতাই পারবে আগামীর সুন্দর পরিকল্পিত একটি দারিদ্র্যমুক্ত, সবুজায়ন ও কৃষি বিপ্লবের বাংলাদেশ নির্মাণ করতে। সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে কৃষকদের নিয়ে যে ভাবনা ভেবেছেন, এতে করে কৃষক তাদের কাঙ্খিল ফসল ফলাতে পারবে। ফলে কৃষকের উৎপাদিত ফসল দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করতে পারবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। যেখান থেকে সরকারের রাজস্বে জমা হবে একটি নির্দিষ্ট পরিমানের আয়ের অংশ। এমনটাই বলছেন সচেতন মহল।













