রাজশাহী:: নানা অনিয়ম, অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর চরম বিশৃঙ্খলার কারণে একসময় প্রায়ই নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হতো রাজশাহীর দুর্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী “দাওকান্দি সরকারি কলেজ”। তবে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে এখন স্বমহিমায় ফিরতে শুরু করেছে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেজাউল করিম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে কলেজ প্রাঙ্গণে। কঠোর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি ফিরিয়ে এনেছেন শৃঙ্খলা, নিশ্চিত করেছেন শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের এই নতুন পথচলায় প্রথম পদক্ষেপই ছিল কঠোর শৃঙ্খলা। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং নির্ধারিত পোশাক (ইউনিফর্ম) পরিধানের ক্ষেত্রে শতভাগ কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। একসময় যেখানে বহিরাগত ও বখাটেদের অবাধ যাতায়াত ছিল, সেখানে এখন বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা, বিশেষ করে ছাত্রীরা একটি নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের উপস্থিতির বিষয়েও নেওয়া হয়েছে কঠোর পদক্ষেপ। ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নিয়মিত শিক্ষকদের হাজিরা ও ক্লাস নেওয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজে প্রতিদিন ক্লাসের সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছেন, যা ঝিমিয়ে পড়া শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন গতি এনেছে। একই সাথে তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং কলেজ ক্যাম্পাসকে মাদকের কুপ্রভাব থেকে দূরে রাখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে বর্তমান প্রশাসন।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, “আগে আমাদের কলেজে পড়াশোনার চেয়ে বিশৃঙ্খলাই বেশি হতো, যার কারণে ক্যাম্পাসে আসতেও ভয় লাগত। কিন্তু বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্যার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরো পরিবেশ বদলে গেছে। এখন বহিরাগতদের উপদ্রব নেই, মেয়েরা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন। কলেজের এমন সুশৃঙ্খল ও সুন্দর পরিবেশ আমাদের পড়াশোনার মনোযোগ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।”
কলেজের এই ভোলবদল ও সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এভাবে নিয়মহীনতায় চলতে পারে না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধান লক্ষ্যই ছিল ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমরা বহিরাগত ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব। অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিয়ে আমরা এই কলেজটিকে জেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে রূপান্তর করতে চাই।”
প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় প্রশাসনিক ও আর্থিক খাতে এমন স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করায় দুর্নীতি ও অনিয়ম অনেকটাই দূর হয়েছে। তাঁর এই ইতিবাচক ও সংস্কারমুখী উদ্যোগের কারণে ইতোমধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।
অভিভাবকরা স্বস্তি প্রকাশ করে বলছেন, কলেজের এই পরিবর্তনের ধারা বজায় থাকলে এলাকার উচ্চশিক্ষার মান আরও উন্নত হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের এই বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সততা ধরে রাখতে পারলে দাওকান্দি সরকারি কলেজ আগামী দিনে মেধা ও শৃঙ্খলায় অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।















