আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ:: দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত ১২তম ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনুর মিয়া। তিনি ময়মনসিংহ জেলার সাবেক এসপি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পশ্চিম জোনের ডিসি ছিলেন। তিনি একজন দক্ষ ও পেশাদান সৎ ও মানবিক পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিত মুখ। বর্তমান সরকার তার চাকরি ফেরৎ দিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি দিয়েছেন।কিন্তু তাকে কোথাও পদায়ন করা হয় নাই।
তার পদোন্নতির পর পর এসপি কোহিনূর মিয়ার অতীতের সফলতা ও দেশব্যাপী পরিচিত হওয়ায় বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
তিনি ময়মনসিংহ ও ঢাকায় চাকুরীকালীন সময়ে তার পেশাদারিত্বের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সন্মান ও ভার্বমুর্তি রক্ষার পাশাপাশি অবৈধ দখলদার,মাদক,মদ জুয়া চাঁদাবাজ দমনে সকল অভিযানে চালিয়ে সফলতা অর্জন করে নিজ বাহিনী রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারন মানুষের কাছে প্রসংশিত হযেছেন ।
তার চাকরিকালীন সময় নিস্কুলুষ ইমেজ ও দৃঢ়তার ফলে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দমনে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রেখে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছেন।
ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে ২০০৩ সালের ৩১ মার্চ থেকে ২০০৫ সালের ১০ মার্চ সময়কালে কোহিনুর মিয়া ময়সনসিংহের ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। সে সময় এসপি কোহিনূর মিয়ার সরকারী গাড়ি রাস্তায় দেখলেই অপরাধীরা দৌড়ে পালাত। তাই সেসময় ব্যবসায়ী,রাজনীতিবিদ,আইনজীবি,সাংবাদিক,সুশীল সমাজ,ছাত্র-শিক্ষক, সাধারন মানুষের চায়ের আড্ডায় ব্যাপক ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়ে ওঠেন কোহিনুর মিয়া।
কোহিনুর মিয়া ময়মনসিংহ চাকুরীকালীন সময়ে তার এটি বক্তব্য এখনো মানুষের মুখে মুখে । সেটি হল “আমি থাকলে মাদক আর মাদক ব্যবসায়ী থাকবে না” মাদক আর মাদক ব্যবসায়ী থাকলে আমি থাকব না”। সেসময় ময়মনসিংহ শহরের কৃষ্টপুর কলোনীতে শত সদস্যের গোষ্টিগত মাদক ব্যবসায়ী চক্র “কইচ্চার গোষ্টি”কে তিনি কঠের হাতে দমন করেন । সেসময় জেলা শহর ভাসত মাদকের ওপর। তাই শক্ত হাতে নগরীর পুরোহিত পাড়া,কৃষ্টপুর, বাঘমারা,ব্রহ্মপল্লী,ডিবি রোড কলেজ রোড,গোহাইল কান্দি,সানকি পাড়া, কালিঝুলি, কেসি গাঙ্গুলী রোড,গঙ্গাদাস গুহ সড়ক, জেলা পরিষদ গেইট,জিরো পয়েন্ট,পৌর সুপার মার্কেট,বিশ্বেসরী দেবী রোড,বিপিন পার্ক,জুবলী ঘাট,মহা রাজা রোড মোড়,লোকনাথ মন্দির, প্রিক্যাডেট স্কুল মোড়,এসকে হাসপাতাল পশুপালন অফিসের গলি, র্যারীর মোড়,এলজিডি অফিস গেইট,হাজী কাশেম আলী কলেজ গেইট ছিল মাদকের অভয়ারন্য।
এ ছাড়াও নতুন বাজার, ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয় গেইট,বিদ্যাময়ী স্কুলের গলি,অলকা নদী বাংলার গলি, আইন কলেজ, রমেশ সেন রোড ,আজাদ জুতার দোকানের গলি,বারি প্লাজা,মাল গুদাম,পালিকা মার্কেট মোড়, রেল গেইট,জেসি গুহ রোড,,বাঘ মারা মোড়,রেল ক্রসিং, ব্রাহ্মপল্লী সামদানী মসজিদ মোড়,বাঘ মারা মেডিকেল হোস্টেল গেইট,ভাটি কাশর গোরস্হান, আলিয়া মাদ্রাসা মোড়,ভৈরব রেল ক্রসিং,সিকে ঘোষ রোড,মিন্টু কলেজ রেল গেইট, মহিলা কলেজ গেইট, পুরাতন পুরাতন ত্রিশাল বাস স্ট্যান্ড,হোমিও মেডিকেল কলেজ গেইট, বদরের মোড়,জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের গেইট,পুরবী সিনেমা হল,মেডিকেল কলেজ গেইট, লাশ কাটা গেইট, পলিটেকনিক গেইট,গনসার মোড়,স্বদেশ হাসপাতাল আমিরাবাদ মোড়, এডওয়ার্ড স্কুল গেইট,এবি গুহ সড়ক,আম পট্রি মোড়,হরি কিশোর রায় রোড,ঈশান চক্রবর্তী রোড,গুল পুকুর পাড়,গোবিন্দ গাঙ্গুলী রোড,আমলা পাড়া রাজবাড়ির পিছনে,নাটক ঘর লেন নিশিকান্ত সড়ক,রমেশ সেন রোড,বিপিন সেন রোড,জহির উদ্দিন সড়ক,চুন্নু মিয়া বাইলেন, কালি বাড়ি গোরস্হান,,ফুলবাড়িয়া সিএনজি স্ট্যান্ড,পিটি আই গেইট,সানকি পাড়া রেল গেইট, গুলকি বাড়ি মোড়,আনন্দ মোহন কলেজ রেল গেইট, পন্ডিত পাড়া সড়ক,নতুন বাজার রেল ক্রসিং, নওমহল গরুর গোয়ার মোড,রাম কৃষ্ণ মিশন রোডসহ বিভিন্ন স্হানে অভিযান চালিয়ে মাদক,মদ উদ্ধার, চোরসহ শত ছিনতাইকারী তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এ ছাড়া ক্রীড়াপল্লীতে বারোমাসী জুয়া হাউজি বন্ধে কঠোর ভুমিকা পালন করেন। তার এই ধরনের দৃঢ় কঠোর আইনী পদক্ষেপের কারনে উল্লেখিত এলাকায় মানুষ দিনে রাতে এসব রোড দিয়ে নগরীর মানুষ দিন- রাতে নিরাপদে চলাচল করতে পেরেছে।
নগরীতে চুরি,ছিনতাই মাদক বিক্রি,মাদক সেবী এবং গফরগাও, ভালুকা এবং ত্রিশাল এলাকায় ডাকাতি রোড অনেকাংশে সংখ্যা কমে আসে।
এসপি কোহিনূর মিয়ার আমলে নগরীর যানজট ও নিয়ন্ত্রনহীন রিক্সাকে আইনী কাঠোমোর মধ্যে এনে নিয়ন্ত্রন এবং টাউন ডিফেন্স পার্টিকে সক্রিয় করেন।
জনদুর্বোগ লাঘবের অন্যতম কারন বড় বাজার ট্রাক স্ট্যান্ড,জিলা স্কুল মোড়ে ফুলবাড়িয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে সরিয়ে শহরের বাইরে নিতে সক্ষম হন। তার প্রতিটি ইতিবাচক জনবান্ধব কাজে জনগনকে তিনি সম্পৃক্ত রাখতে সক্ষম হন।
এছাড়াও নগরীর গাঙ্গিনা পাড়,নতুন বাজার, দুর্গাবাড়ি, রামবাবু রোড,স্টেশন রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে হকার ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করাসহ । জেলার ১৩টি উপজেলায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই রোড ডাকাতি মাদক ব্যবসা কমিযে আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সেসময় এসপি কোহিনুরের নাম শুনলে চাঁদাবাজ, ডাকাত ও বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িতরা আতংকিত হয়ে উঠতো।
তার আমলে রাজনৈতিক খুন, গুম ও ক্রস ফায়ারে মানুষ হত্যার মত ঘটনা ঘটেনি। কোন রাজনৈতিক দলের দলীয় কর্মকান্ডে অডাচিত হস্তক্ষেপ করেন নি। যে কারনে দলীয় শাস্তির ভয় এড়াতে আ.লীগের প্রথম সারির অনেক নেতা গোপনে তার সাথে দেখা করে তার কাজের জন্য প্রশংসা করেছেন।
এসপি কোহিনূর মিয়ার আমলে ময়মনসিংহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোন নেতাকর্মীরা আঞ্চলিক সড়ক-মহাসড়কে চাদা বাজি ,বাসা-বাড়িতে হামলা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দখলবাজি করে মানুষকে হয়রানি এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতির মত কোন কর্মকান্ড করতে পারেনি। তিনি শক্তহাতে এসব নিয়ন্ত্রণ করেছেন। পাশাপাশি কোন পুলিশ মানুষকে মিথ্যা দিয়ে হয়রানি করার সাহস পায়নি।
ময়মনসিংহের পরিবহন মালিক, ট্রাক মালিক, দোকানদার এবং সাধারণ নাগরিকদের মতে, এসব অভিযানের ফলে ওইসব এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে এবং জনজীবনে স্বস্তি সৃষ্টি হয়।
এসপি কোহিনুর মিয়ার অন্যতম গুন ছিল প্রশাসনিক দক্ষতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দৃঢ় অবস্থান।
তাঁর বুদ্ধিমত্তা, সিনিয়র সিটিজেনদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জুনিয়র সদস্যদের প্রতি স্নেহপূর্ণ আচরণের কারণে তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন আস্থার প্রতীক হযে ওঠেছিলেন।
পরবর্তীতে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পশ্চিম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই সময় তিনি চারদলীয় জোট সরকারের ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যককে গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চাঁদাবাজ দমনে সফল অভিযান পরিচালনা করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
ঢাকা মহানগর এলাকায় তাঁর নেতৃত্বে একাধিক সফল অভিযান পরিচালিত হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সুত্রমতে তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে কোনো ধরনের ক্রসফায়ার, গুম বা খুন সংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ আলোচনায় আসেনি,যা তাঁকে একজন “ক্লিন ইমেজ” পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি দেয়।
আওয়ামীলীগ সরকার ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পশ্চিম অঞ্চলের উপকমিশনার (ডিসি) কোহিনূর মিয়াকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোহিনূর মিয়া বিধি মোতাবেক প্রাপ্যতা অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতাদি প্রাপ্য হবেন।
জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
বর্তমানে তাঁর কর্মজীবনের এসব অবদান নিয়ে ময়মনসিংহ রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবের পর জনগনের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আাসার পর সৎ,ন্যায় বিচারক, নিরহংকারী, মেধাবী ও দেশব্যাপী ইতিবাচক পরিচিতির মানুষ এসপি কোহিনূর মিয়া দীর্ঘদিন পর আবার চাকুরী ফিরে পেয়েছেন।
পুলিশ বাহিনীতে এসপি কোহিনুর মিয়া ফিরে আসায় দেশের মানুষও পুলিশ বাহিনীর মধ্যে নিরব সন্তোষ ও আনন্দের অনুভূতি বিরাজ করছে।
জুলাই -আগষ্ট বিপ্লবের পর (৫ আগষ্ট) থানায় ও সড়কে হামলা এবং মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে পুলিশ বাহিনী । ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় সরকার আসায় পুলিশ বাহিনীর বেশ কিছু চৌকষ কর্মকর্তার কারনে বাহিনিতে অনেকটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। এমন সময়ে
পুলিশ বাহিনীতে এসপি কোহিনুর মিয়ার মত পেশাদার মানবিক ও আপোষহীন আইকনিক কর্মকর্তাকে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে তাকে দেশ ও জনগনের সেবার জন্য পদায়নের বিষয়টি সময়ের ইতিবাচক ও যৌক্তিক দাবী হয়ে ওঠেছে।













