আইয়ুব আলী ময়মনসিংহ :: নেত্রকোণার মদনে আলোচিত মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তস্বত্তার ঘটনায় মামলার প্রধান অভিযুক্ত আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর (৩০)কে গ্রেফতার করেছে র্যা ব-১৪, ময়মনসিংহের একটি অভিযানিক দল। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পালাতক ছিল কিন্তু আজ বুধবার (৬ মে) ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে ব্যাব-১৪ এর একটি অভিযানিক দল তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। আজ দুপুরে র্যা ব-১৪ সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিং এই তথ্য নিশ্চিত করেছের ময়মনসিংহ র্যা ব-১৪ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান ।
র্যা ব-১৪ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান জানান, ঘটনার পর চলতি বছর ২৩ এপ্রিল বাদীর এজাহারের বিবরন থেকে জানা যায় গ্রেফতার আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর (৩০) নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলায় হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি একই এলাকার বাসিন্দা ও পরিবারের একমাত্র কন্যা সন্তান। শিশুটি, গতবছর ২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পর গ্রেফতার শিক্ষকের আদেশে মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের বারান্দা পরিষ্কার করতে থাকে। সেই মুহুর্তে ওই শিক্ষক শিশুটিকে তাঁর কক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে । ডাযাগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার পর শিশুটি শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষিত হওয়া কথা জানায় তার মা’কে।
র্যা বের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, অভিযুক্ত আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর (৩০) নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলায় হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি একই এলাকার বাসিন্দা ও পরিবারের একমাত্র কন্যা সন্তান।
যারা এ ঘটনায় চিকিৎসককে হুমকি দিয়েছেন তিনি নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি জিডি করেছেন। আমরা তদন্ত করে হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নিব।
শিশুটির বাবা তাদের ছেড়ে দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ থাকায় জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। গত কিছুদিন থেকে শিশুটির মা শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে চলতি বছর ১৮ এপ্রিল নেত্রকোনার মদনে মডার্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। আলটাসনোগ্রামে দেখে চিকিৎসক জানান শিশুটি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা ২৩ এপ্রিল ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/২০২০) এর ৯(১) তৎসহ ৫০৬ পেনাল কোড মুলে মামলা (মামলা নং-১৭) বাদী হয়ে নেত্রকোণা জেলার মদন থানায় মামলা দায়ের করেন । ঘটনাটি টেলিভিশন প্রিন্ট ও সোসাল মিডিয়ায় প্রচারের পর দেশ জুড়ে আলোচিত হয় ওঠে নিন্দার ঝড়।
র্যা বের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষক গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। র্যা ব-১৪, ময়মনসিংহ এই চাঞ্চল্যকর মামলার ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে তাকে গ্রেওফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান র্যা বের অধিনায়ক।













