আইয়ুব আলী ময়মনসিংহ- ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অগ্রাধিকার প্রকল্প খাল খনন কর্মসুচী বাস্তাবায়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে । জেলায় ১১টি খালের ৪৯ কিলোমিটার অংশ খননকাজ চলছে। খাল খনন কাজের অগ্রগতি ৫৫% শতাংশ। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো সাইফুর রহমান আজ সন্ধায় এই খবর নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসক বলেন, ৪৯ কিলোমিটার খাল খননের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৫৫% শতাংশ শেষ হয়েছে। মরাখালগুলে দিয়ে পানি প্রবাহ সচল করা হয়েছে। খালপাড়ের লোকজন এর সুবিধা পেয়ে খুশী। বাকী কাজ আগামী বর্ষার আগেই শেষ হবে। এখন দ্রুত গতিতে খালের দুইপারে ড্রেসিং চলছে । একাজ সম্পন্ন হলেই খালপাড়ে ফলজসহ বিভিন্ন জাতের বৃক্ষরোপনের কাজ শুরু করা হবে। আজ দুপুরে জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান হালুয়াঘাট উপজেলার ৫ কি:মি: কচুন্দারা খনন কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা ও অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সদস্য এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো সাইফুর রহমান বলেন, খাল খনন কৃষিতে সেচ সুবিধা ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করে । প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অগ্রাধিকার প্রকল্প খাল খনন কর্মসুচীসহ সকল প্রকল্প সরেজমিনে নিয়মিত পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। আশা করি বর্ষা মৌসুমের আগেই লক্ষমাত্রার ৪৯ কিমি খাল খনন কাজ সুসম্পন্ন করা যাবে। তিনি আরও বলেন, খাল খনন বা পুনঃখনন বাংলাদেশের মতো নদীমাতৃক ও কৃষিপ্রধান দেশের পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও পরিবেশ সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকরী। এটি একদিকে যেমন পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে, তেমনি সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নতুন সম্ভাবনা যোগ করবে।
খাল খননের প্রধান ও উল্লেখযোগ্য উপকারিতাগুলো হলো,বর্ষার অতিরিক্ত পানি খালে জমা রাখা সম্ভব হয়, যা শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে সেচের পানির চাহিদা মেটায়। পর্যাপ্ত পানির নিশ্চয়তা থাকায় সহজে একাধিক ফসল উৎপাদন করা যায়, যার ফলে খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত হয়। পানি নিষ্কাশন সচল থাকার ফলে বর্ষা মৌসুমে বা অতিরিক্ত বৃষ্টির সময় জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে। ফলে শহর এবং গ্রামে শহরের বা গ্রামাঞ্চলের জলাবদ্ধতা ও বন্যার প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। খালের পানি ভূগর্ভে চুইয়ে প্রবেশ করার সুযোগ পায়, যা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বৃদ্ধিতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে খাল জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে এবং সামগ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ: জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও ভারসাম্য বজায়
উন্মুক্ত জলাশয় হওয়ায় খালে মাছের উৎপাদন বাড়ে এবং মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি করে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। গ্রামাঞ্চলে স্বল্প পরিসরে নৌকায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।
অবকাঠামো ও খাল ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন হলে খাল খননের সুবিধা পেতে এবং পানি অপচয় রোধে অনেক সময় আস্তরণ বা পাইপলাইনের মতো আধুনিক পদ্ধতিও ব্যবহৃত হয়, তাই এটি পানি পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করে তোলে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি বছরের ২৩ মে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসুচীর উদ্বোধন করেন ।













